ধর্ম

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত থাকার ফজিলত

স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিয়োজিত থাকার ফজিলত

একটা দেশ বা রাষ্ট্রের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য তার সীমান্ত রক্ষা করা, সীমান্ত নিরাপদ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত নিরাপদ থাকলে দেশ নিরাপদ থাকে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অর্থ হলো বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের ভৌগোলিক সীমানা, জনগণ ও সম্পদকে সুরক্ষিত রাখা। এ ছাড়া অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও অন্যান্য অসৎ কার্যকলাপ প্রতিরোধের জন্যও সীমান্ত প্রহরা অপরিহার্য।

Advertisement

ইসলামে সীমান্ত প্রহরাকে বিশেষ ফজিলতপূর্ণ আমল গণ্য করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ও বেশ কিছু হাদিসে সীমান্ত রক্ষার ‍গুরুত্ব ও ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা শত্রুর মোকবেলা ও সীমান্ত রক্ষায় ‍দৃঢ় থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, হে মুমিনগণ! সবর অবলম্বন কর, মোকাবেলার সময় অবিচলতা প্রদর্শন কর এবং সীমান্ত রক্ষায় স্থিত থাক। আর আল্লাহকে ভয় করে চল, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সুরা আলে ইমরান: ২০০)

এক রাত সীমান্ত পাহারা দেওয়াকে এক মাস নফল ইবাদত করার চেয়ে উত্তম ঘোষণা করে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, এক দিন ও এক রাতের সীমান্ত পাহারা ধারাবাহিকভাবে এক মাসের সিয়াম সাধনা ও সারা রাত নফল ইবাদতে কাটানোর চেয়ে উত্তম। (সহিহ মুসলিম)

Advertisement

আরেকটি বর্ণনায় আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেন, আল্লাহর পথে এক দিন সীমান্ত পাহারা দেওয়া দুনিয়া ও এর মধ্যকার সবকিছু থেকে উত্তম। (সহিহ বুখারি)

সীমান্ত রক্ষাকারী আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা লাভ করে, জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি লাভ করে। নবিজি (সা.) বলেন, দুটি চোখ জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না। একটি হলো ওই চোখ, যা আল্লাহর ভয়ে কাঁদে, আরেকটি হলো ওই চোখ, যা সীমান্ত পাহারায় না ঘুমিয়ে রাত অতিবাহিত করে। (সুনানে তিরমিজি)

জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সীমান্ত পাহারায় কাটানো একটি রাতের ফজিলত কদরের রাতে ইবাদতের চেয়েও বেশি। নবিজি (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের কদরের রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাতের কথা জানাব না? তা হলো ওই পাহারাদারের রাত, যে ভয়সংকুল স্থানে পাহারা দেয়। তার আশঙ্কা হয়, সে হয়তো তার পরিবারে জীবিত ফিরতে পারবে না। (মুসতাদরাকে হাকেম)

সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত অবস্থায় যে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করে, সে মৃত্যুর পরও সওয়াব লাভ করতে থাকে। নবিজি (সা.) বলেন, আল্লাহর পথে এক দিন বা এক রাত সীমান্ত পাহারা দেওয়া, এক মাসের রোজা পালন ও নামাজ আদায়ের চেয়ে উত্তম। আর ওই প্রহরী যদি এ অবস্থায় মারা যায়, তবে তার আমলের সাওয়াব সে অবিরত পেতে থাকবে। কবরে তার জন্য (জান্নাত থেকে) রিজিক আসতে থাকবে এবং সে কবরের কঠিন পরীক্ষা থেকে মুক্তি পাবে। (সহিহ মুসলিম)

Advertisement

উল্লিখিত কোরআনের আয়াত ও হাদিসমূহের আলোকে আমরা বুঝতে পারি সীমান্ত রক্ষা তথা দেশের নিরাপত্তা, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা ইসলামে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ নেক আমল। সীমান্ত ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যারা নিয়োজিত থাকে, ইসলামের দৃষ্টিতে তারা অত্যন্ত সম্মানিত। জনসাধারণের কর্তব্য তাদের ত্যাগ ও আত্মনিবেদনের বিষয়টি মনে রেখে তাদের মর্যাদা দেওয়া এবং নিজেরাও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যথাযথ ভূমিকা পালন করা। দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা বিনষ্টকারী যে কোনো কর্মকাণ্ড ও চক্রান্ত প্রতিরোধে সদা সজাগ থাকা।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নিজের দেশ, ধর্ম ও জনগণের সুরক্ষায় যথাযথ ভূমিকা পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

ওএফএফ/এমএস