সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘পূর্ণাঙ্গ অগ্নিনির্বাপণ মহড়া’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) নির্দেশিকা অনুযায়ী বিমানবন্দরে দুর্ঘটনাপ্রবণ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করতে এই মহড়া করে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
Advertisement
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়।
মহড়ায় ফায়ার ক্রুদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা যাচাই করে সার্চ ও রেসকিউ অনুসন্ধান চালানো হয়। পাশাপাশি উদ্ধারকাজে সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়। মহড়ায় বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসার, বিএনসিসি, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, র্যাব, এপিবিএন, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস বাংলা এবং নভোএয়ারসহ বিভিন্ন সংস্থা একযোগে অংশ নেয়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ জানান, মহড়ায় দেখানো হয় সর্বমোট ৫০ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে এবিসি-১২৩ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে প্রান্ত দিয়ে অবতরণ করে। রানওয়েতে অবতরণের পর পরই বিমানটি অপ্রত্যাশিতভাবে রানওয়ে থেকে সরে ট্যাক্সিওয়ে আলফা ও ব্রাভোর মাঝামাঝি ২০০ ফুট দূরে কার্গো অ্যাপ্রোনের সামনে গিয়ে ছিটকে পড়ে। সহসাই উড়োজাহাজের ডান পাশের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে কন্ট্রোল টাওয়ার বিষয়টি অবলোকন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্রাস অ্যালার্ম সুইচ অন করার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবগত করে।
Advertisement
একই সঙ্গে কন্ট্রোল টাওয়ার বিমানবন্দরের ফায়ার স্টেশন, বিমানবন্দর পরিচালক, স্যাটো, স্টেশন ফায়ার অফিসারকে তাৎক্ষণিক অবগত করে। এরই মধ্যে উড়োজাহাজের নিচের অংশ দিয়ে আগুন দেখা দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটিতে পুরোপুরি আগুন ধরে যায়। সর্বশেষ ৭ জন যাত্রীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার, ৩ জন আহত এবং ৫ জন মারা যায় বলে দেখানো হয় মহড়ায়।
এ মহড়ায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়মিত এমন মহড়া আয়োজন করা হয়। এই ধরনের মহড়া জরুরি মুহূর্তে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুততার সঙ্গে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর আজারবাইজান, ২৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ কোরিয়া, চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি আমেরিকা এবং ১৮ ফেব্রুয়ারি কানাডাসহ কয়েকটি দেশে বিমান দুর্ঘটনা ঘটে। এই বাস্তবতা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ব প্রস্তুতি ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এ ধরনের মহড়া আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং নিশ্চিত করে যে, সংকট মুহূর্তে দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে আমরা উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হবো।
Advertisement
অনুষ্ঠানে বেবিচক, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মহড়ায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংস্থার ঊধ্বর্তন কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
এমএমএ/কেএসআর