চিলিতে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বরিক। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শুরু হওয়া এই বিভ্রাটের ফলে রাজধানী সান্তিয়াগোসহ প্রায় পুরো দেশ অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়।
Advertisement
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে চিলির ১৪টি অঞ্চল বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এর ফলে প্রায় ৮০ লাখ বাড়িঘর বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গ্রীষ্মের মৌসুমে এমন বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সেখানকার জনজীবন।
আরও পড়ুন>>
শ্রীলঙ্কায় দেশজুড়ে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের জন্য বানরকে দুষলেন মন্ত্রী কিউবায় হারিকেন অস্কারের আঘাত, বিদ্যুৎ সংকটে দেশজুড়ে হাহাকার ইউক্রেনের বিদ্যুৎ খাতে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, অন্ধকারে ১০ লাখ মানুষচিলির জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাকারী সংস্থা ন্যাশনাল ইলেকট্রিক্যাল কোঅর্ডিনেটর জানিয়েছে, আতাকামা মরুভূমি থেকে সান্তিয়াগো পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি হাই-ভোল্টেজ ট্রান্সমিশন লাইনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় এই বিভ্রাট ঘটে। তবে ঠিক কী কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, তা এখনো তদন্তাধীন।
Advertisement
প্রেসিডেন্ট বরিক বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, লাখ লাখ মানুষ এই ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন, এটি কোনোভাবেই বরদাশত করা যায় না। আমরা বিষয়টি সহজভাবে নেবো না, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরকার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ১০টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।
পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয়বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সান্তিয়াগোর মেট্রো সেবা বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে হাজার হাজার যাত্রী স্টেশনে আটকে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, অন্ধকার স্টেশন থেকে যাত্রীদের বের করে আনছেন কর্মীরা।
সান্তিয়াগো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি জেনারেটরের সাহায্যে উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। তবে লাতাম এয়ারলাইনস জানিয়েছে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে বেশ কিছু ফ্লাইট বিলম্বিত হতে পারে।
Advertisement
নেটব্লকস নামের একটি ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা জানায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে চিলিতে ইন্টারনেট সংযোগ মাত্র ২৫ শতাংশ কার্যকর ছিল।
সরকার জানিয়েছে, হাসপাতাল, কারাগার ও সরকারি ভবনগুলো জরুরি জেনারেটরের মাধ্যমে চালু রাখা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গার্ড বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জিমেনা অ্যাগুইলেরা জানান, দেশের হাসপাতালগুলো জেনারেটরের সাহায্যে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ন্যাশনাল ইলেকট্রিক্যাল কোঅর্ডিনেটর জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মোট বিদ্যুৎ চাহিদার এক-চতুর্থাংশ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। সংস্থাটি আশা করছে, বুধবার ভোরের মধ্যেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
সূত্র: সিএনএনকেএএ/