আইন-আদালত

আওয়ামী লীগপন্থি ৬১ আইনজীবী কারাগারে, ২৭ জনের জামিন

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে হামলা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ঢাকার কোতয়ালী থানার মামলায় ঢাকা আইনজীবী সমিতির ৬৪ আওয়ামীপন্থি আইনজীবীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে আদেশের পর এজলাস থেকে গ্রেফতার করে ৬১ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রথমে আদালতে আত্মসমর্পণ করলেও বাকি তিনজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

Advertisement

এছাড়া একই মামলায় ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ সাগরসহ ১৯ জনের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। অপরদিকে সুপ্রীম কোর্টে ২০২৩ সালে নিবার্চনের সময় হামলার ঘটনায় শাহবাগ থানার মামলায় আট আইনজীবীর আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।

আজ রোববার (৬ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালতে তারা আত্মসমর্পন করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান মানিকসহ ৬১ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এছাড়া বয়স্ক বিবেচনায় ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ সাগরের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। নারী বিবেচনায় আইনজীবী আফরোজা ফারহানা অরেঞ্জ, সাহেলা আক্তার শিল্পি, সালমা হাই টুনি, শারমিন সুলতানা হ্যাপী ও সুলতানা রাজিয়া রুমাসহ ১৮ জনের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

কারাগারে যাওয়া উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- ঢাকা বারের সাবেক সভাপতি সাইদুর রহমান মানিক, গাজী শাহ আলম, ঢাকা বারের সাবেক অফিস সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, গোলাম কিবরিয়া সুমন, সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক উজ্জল মিয়া ও সাইবার ট্রাইব্যুনালের সাবেক পিপি নজরুল ইসলাম শামিম।

Advertisement

অপর দিকে সুপ্রীম কোর্টে ২০২৩ সালে নিবার্চনের সময় হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় শাহবাগ থানার মামলায় আট আইনজীবীর আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এ দুই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে সব আসামি ৮ সাপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আজ তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন।

৬১ আইনজীবী কারাগারে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানার ইনর্চাজ পুলিশের উপ-পরিদর্শক রিপন মিয়া। অপরদিকে দুই মামলায় ২৭ জন জামিনের বিষয়টি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।

আরও পড়ুন

পলাতক নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরাকারাগারে আওয়ামী লীগ নেতাদের ঈদ

কোতয়ালী থানার মামলার অভিযোগে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বেলা ১২টার দিকে আসামিরা ঢাকা আইনজীবী সমিতির সামনে থেকে বেআইনিভাবে অস্ত্র, লাঠিসোঁটা নিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। তারা বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ‘শেখ হাসিনার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় ভুক্তভোগী আইনজীবী মামলা শুনানি শেষে করে ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে আসেন। তখন আসামি আনোয়ার শাহাদাৎ শাওন হেলমেট পরে পিস্তল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি তাক করেন। আসামি ওয়াকিল লোহার রড দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।

Advertisement

এছাড়া অন্য আসামিরা স্লোগান দিয়ে বাদীসহ অন্য আইনজীবীদের কিল-ঘুষি মারে এবং লোহার রড ও লাঠি দিয়ে মারাত্মক আঘাত করেন। আসামিরা বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের চেম্বার ভাঙচুর ও লাখ লাখ টাকার মূল্যের মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যান। তারা আশপাশের আইনজীবীদের প্রাণনাশের হুমকিও দেন। আসামিরা ঢাকা আইনজীবী সমিতির চেম্বার ভবন ও ভবনের গুরুত্বপূর্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এক কোটি টাকার ক্ষতিসাধন করেন।

এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালতে আইনজীবী সমিতির কার্যনির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ আলী বাবু বাদী হয়ে এ মামলা করেন। আদালত মামলাটি নিয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশকে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।

এমআইএন/এএমএ/জিকেএস