এবারের ঈদ উৎসব ছিল ব্যতিক্রমী ও স্বস্তিদায়ক, কারণ সাউন্ড বক্সের বিকট শব্দের কোনো উৎপাত ছিল না। সাধারণত ঈদের সময় উচ্চশব্দের সাউন্ড সিস্টেম বাজিয়ে পরিবেশ দূষণ ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করা হয়। তবে এবার প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং জনসচেতনতার ফলে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপিত হয়েছে।
Advertisement
অন্যবার স্যালোইঞ্জিনচালিত তিন চাকার অবৈধ বাহন আলমসাধু ও অনেকে মিনি ট্রাকগুলো সাউন্ডবক্স নিয়ে জোর শব্দে গান বাজিয়ে শব্দদূষণ করতো। যার ফলে ঈদ আনন্দে জনসাধারণের ঘটতো ব্যাঘাত। তবে এবার সেই চেনা দৃশ্য এই ঈদুল ফিতরের দুই দিনে চোখে পড়েনি।
নিশি নামের একজন নারী দুই সন্তান নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছেন। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ গেটে সামনে তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, অন্য রাস্তাঘাটে প্রচুর শব্দদূষণ হয়। এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। সাউনবক্সের যন্ত্রণা নেই।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের চৌরাস্তার মোড়ে রুবেল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীকে দেখা যায়। পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাচ্ছে। জানতে চাইলে বলেন, পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরি করছি। এবার অযাচিত শব্দে সেই সাউন্ডবক্স বাজানো দেখছি না। এটা বেশ ভালো।
Advertisement
স্থানীয় আরও কয়েকজন জানিয়েছেন, আগে ঈদের আনন্দ অনেক ক্ষেত্রেই সাউন্ড বক্সের অতিরিক্ত শব্দদূষণের কারণে বিঘ্নিত হতো। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এটি ছিল বিরক্তিকর। তবে এবার সে চিত্র পাল্টে গেছে, যা সবাই ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, এবার ঈদের পরিবেশ ছিল সত্যিই মনোরম। কোলাহল কম থাকায় পরিবারের সবাই মিলে শান্তিপূর্ণভাবে সময় কাটাতে পেরেছি।
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, জনগণের স্বস্তি নিশ্চিত করতে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলার চার উপজেলার ইউএনওকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। শব্দদূষণ করে কেউ ঈদ আনন্দে ব্যাঘাত ঘটায় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। যার ফলশ্রুতিতেই শব্দদূষণ অনেকাংশে কমানো গেছে।
Advertisement
এবারের ঈদ উদযাপন যে শব্দদূষণমুক্ত হয়েছে, তা সমাজে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকবে।
হুসাইন মালিক/এমআরএম