দেশজুড়ে

সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ দর্শনে ১৫ লাখ পুণ্যার্থীর সমাগম

সীতাকুণ্ডে শিব চতুর্দশী মেলায় চন্দ্রনাথ তীর্থ দর্শনে এবার সাধু-সন্যাসীসহ প্রায় ১৫ লাথ পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটেছে। প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে কলিযুগের সব চেয়ে বড় ও প্রধান ঐতিহ্যবাহী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব তিনদিন ব্যাপী শিব চতুর্দশী মেলা শান্তিপূর্ণ ভাবে বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। মেলাকে ঘিরে কয়েকদিন ধরে তীর্থ দর্শন করার আশায় তীর্থযাত্রীরা বিভিন্ন সড়ক ও আকাশ পথে সীতাকুণ্ডের উদ্দেশ্যে পুণ্যার্থীরা পুণ্য লাভের আশায় এখানে প্রতি বছর দলে দলে ছুটে আসেন। মেলায় ১৫ লাখ তীর্থযাত্রীর আগমন ঘটেছে বলে জানা গেছে।

Advertisement

চন্দ্রনাথ ধামে অনুষ্ঠিত মেলায় দেশ বিদেশ থেকে তীর্থ দর্শন করতে হিন্দু প্রাণ নর-নারীর আগমনে সীতাকুণ্ড মিলন মেলায় পরিণত হয়ে উঠে।

সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ স্রাইন কমিটির উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী শিব চতুর্দশী মেলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে শিব চতুর্দশী মেলা ছাড়াও সারা বছর কম বেশি চন্দ্রনাথ ধাম দর্শন করার জন্য এবং পর্যটক গনের এখানে আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। জানা গেছে মহাকাব্য রামায়ণ ও মহাভারতে অসংখ্য পুণ্য স্মৃতি বিজড়িত সীতাকুণ্ড মহা তীর্থে রয়েছে অসংখ্য মঠ মন্দির। কথিত রয়েছে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষ পৃথিবীর সব তীর্থ দর্শন করলেও অন্তত একবার যদি সীতাকুণ্ড তীর্থ ভূমিদর্শন না করে তাহলে তার তীর্থ দর্শন সম্পন্ন হয় না। তাই প্রত্যেক সনাতন ধর্মাবলম্বীদের চেষ্টা থাকে জীবনে একবার হলেও সীতাকুণ্ডের এ মহাতীর্থ দর্শন করার। প্রতি বছর এ মেলাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তীর্থ যাত্রীরা দলে দলে চন্দ্রনাথ শিব মন্দির দর্শন করার উদ্দেশ্যে ছুটে আসেন।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে তীর্থ দর্শন করতে আসা নন্দন কুমার সরকার ও তার স্ত্রী শান্তা রানী সরকার বলেন, সীতাকুণ্ডে শিব চতুদর্শী মেলায় প্রতিবছর আমরা আসি পরিবার নিয়ে। তবে তীর্থ দর্শন করতে কোনো সমস্যা না হলেও মন্দিরে উঠার সময় সহজ ব্যবস্থা করা গেলে তীর্থ যাত্রীরা নির্ভিগ্নে মহাতীর্থ দর্শন করতে পারবেন। এছাড়া তারা ভোগান্তিতে আর পড়তে হবে না। আমরা খুব সুন্দরভাবে তীর্থ দর্শন শেষ করে আবারও ফিরে যাচ্ছি গ্রামের বাড়ি। পাহাড়ের কিছু কিছু স্থানে প্রচণ্ড ভিড় ছিল।

Advertisement

এতে করে একদিকে যেমন ভিড়ের চাপ, অন্যদিকে গরম, এ দুটো মিলে তীর্থযাত্রীরা কিছুটা সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে চন্দ্রনাথ ধামে উঠার কিছু সিঁড়ি সংস্কার করার কারণে গত বছর থেকে এ বছর পুণ্যার্থীদের ভোগান্তি অনেকটা কমেছে।

ফরিদপুর জেলা থেকে আসা রীতা দাস বলেন, আমি এ বছর প্রথম এসেছি। আর কোনো সময়ে আসিনি। এখানে তীর্থ যাত্রীদের আগমন তা নিজে চোখে না দেখলে বুঝতেই পারতাম না। খুব আনন্দে তীর্থের কার্যক্রম শেষ করেছি। আর এখানে এসে অনেক ভাল লাগছে। গতবছর থেকে এ বছর নাকি তীর্থযাত্রীর কমতি ছিল না।

সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ স্রাইন কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন দাশ বলেন, খুব শান্তিপূর্ণভাবে শিব চতুদর্শী মেলা শেষ হয়েছে। প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের তিথিতে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে এ মেলা। পুণ্য লাভের আশায় দেশ-বিদেশ থেকে আসা লাখ লাখ সনাতন নর-নারী চন্দ্রনাথ ধামে তীর্থ দর্শন করতে ছুটে আসেন। ধর্মীয় এ অনুষ্ঠান শেষ করে আবার যার যার নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। চন্দ্রনাথ ধামের এ দীর্ঘপথে সবার নিরাপত্তায় শতাধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মেলা কমিটির সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসনসহ সবার সার্বক্ষণিক নিরাপত্তায় মেলা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে শেষ করা গেছে। তাই সবাইকে ধন্যবাদ জানাই বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করার জন্য। শিব চতুর্দশী মেলায় তীর্থদর্শন শেষে পুণ্যার্থীরা নিরাপদে যার যার গন্তব্যে ফিরে যাচ্ছেন। বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

Advertisement

এম মাঈন উদ্দিন/আরএইচ/এএসএম