দেশজুড়ে

পর্যটকে মুখর সিলেটের লাক্কাতুড়া চা বাগান

পর্যটকে মুখর সিলেটের লাক্কাতুড়া চা বাগান

ঈদের ছুটিতে পর্যটকের ঢল নেমেছে সিলেটের লাক্কাতুড়া চা বাগানে। ঈদের প্রথমদিনের মতো দ্বিতীয় দিনেও ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। উঁচু-নিচু টিলাবেষ্টিত চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করতে মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) বিকেল থেকে ভিড় জমান ভ্রমণ পিপাসুরা। সন্ধ্যা নামার আগেই প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো চা বাগান এলাকা।

Advertisement

লাক্কাতুড়া চা বাগান সিলেট নগরীর দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। সবুজে ঘেরা মনোরম পরিবেশ, উঁচু-নিচু পাহাড়ি পথ, আর চায়ের সবুজ গালিচায় মোড়ানো এই বাগান শহরের কোলাহল থেকে দূরে এক প্রশান্তির স্থান হিসেবে নগরবাসীর কাছে পরিচিত। সারাবছরই এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে। ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের চাপ আরও বেড়ে যায়।

ঈদের দিন সোমবার বিকেলে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল লক্ষ্যণীয়। মঙ্গলবারও বিকেলেও ছিল দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। স্থানীয় দর্শনার্থী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রকৃতিপ্রেমিরা ভিড় জমান চা বাগান এলাকায়। সন্ধ্যা নামার আগেই হাজার হাজার পর্যটকের মিলনমেলায় পরিণত হয় পুরো চা বাগান এলাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর থেকেই পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়। বিকেলে দর্শনার্থীদের আনাগোনা আরও বাড়তে থাকে। কেউ পরিবার নিয়ে বেড়াতে এসেছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতেছেন। আবার অনেকেই ফটোসেশন ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন।

Advertisement

বৃক্ষপ্রেমী শাহ মো. সিকান্দর আহমদ শাকির বলেন, ছুটি পেলে বা অবসর সময়ে সবসময় এখানে ছিুটে আসি। এখানকার আবহাওয়াটা অন্যরকম। তাছাড়া নিরাপদ একটি জায়গা। এর বাইরে সিলেট চায়ের রাজধানী হওয়ায় স্থানীয় ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা এই চা বাগানে ছুটে আসেন। এবারের ঈদেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।

নগরীর বনকলাপাড়া এলাকার শিক্ষার্থী রিয়াদ বলেন, এটা অনেক সুন্দর একটা জায়গা। পরিবারের সবাই এখানে এসেছেন। পুরো বিকেল প্রাকৃতিক পরিবেশে সময় কেটেছে।

বেসরকারি চাকরিজীবী আহমদ হোসেন বলেন, সিলেট শহরতলীর কাছাকাছি দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে এই চা বাগানটি অন্যতম। সুযোগ পেলেই এখানে আসা হয়। বেশি দূরে যাওয়ার সুযোগ হয় না। স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সময় কাটাতে এখানে এসেছি।

দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তৎপর ছিল। এছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও খাবার ও নানান পণ্যের স্টল বসিয়েছেন, যা ঈদ আনন্দকে আরও রঙিন করে তুলেছে।

Advertisement

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, সিলেটে যারা ঘুরতে আসছেন তারা যাতে নির্বিঘ্নে ঘুরতে পারেন সে ব্যবস্থা আমরা করে রেখেছি। প্রতিটি পর্যটন স্পটে পোশাকধারী পুলিশ ছাড়াও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অবস্থান করছে। পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে পুলিশ।

আহমেদ জামিল/এফএ/এএসএম