জাতীয়

‘ঈদের নতুন পোশাকে পার্কের পরিবেশও রঙিন লাগছে’

‘ঈদের নতুন পোশাকে পার্কের পরিবেশও রঙিন লাগছে’

`এবার ঈদে চার বছরের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছি। আজ ঈদের দ্বিতীয় দিন৷ স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি। ছেলের আনন্দ-বিনোদনের জন্য শিশুপার্ক সবচেয়ে ভালো জায়গা। তাই অন্য কোথায়ও না গিয়ে পার্কে চলে এলাম। এখানে অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে সে (ছেলে) দারুণ উপভোগ করছে। ছেলের এমন উচ্ছ্বাসই আমাদের ঈদ আনন্দ।’

Advertisement

মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) দুপুরে গুলশান-২ এর বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে নিজের ঈদ উদযাপন নিয়ে এভাবেই অভিব্যক্তি জানাচ্ছিলেন রাজধানীর কালাচাঁদপুরের বাসিন্দা কাজী জুবায়ের। এ পার্কে যারা শিশুদের নিয়ে বেরাতে এসেছেন তাদের প্রায় সবাই নিজের ঈদ উদযাপন নিয়ে একই বর্ণনা দেন।

গুলশান-২ এর ৮৪ নম্বর রোডের বাসিন্দা আবু সাঈদ। সাত বছরের স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে নিয়ে তিনিও বিচারপতি সাহাবুদ্দিন আহমেদ পার্কে বেড়াতে যান। তার ঈদ উদযাপন সম্পর্কে জানতে চাইলে আবু সাঈদ বলেন, সন্তানের আনন্দ দেখলে বাবা-মায়ের কাছে সবসময়ই ঈদ আনন্দ লাগে।

‘গতকাল সোমবার (৩১ মার্চ) সন্তানকে নিয়ে মসজিদে নামাজ আদায়, আত্মীয়দের বাসায় দাওয়াত খাওয়াতেই সময় কেটে গেছে। আজ ছেলেকে নিয়ে পার্কে এসেছি। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অন্য অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের নিয়ে এসেছেন। সবার গায়েই ঈদের নতুন জামা। ফলে পার্কের পরিবেশটাও আজ রঙিন লাগছে।’

Advertisement

শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি পার্ক। গুলশান-১ এর পুলিশ প্লাজার ঠিক বিপরীত পাশে দৃষ্টিনন্দন পার্কটির অবস্থান। পার্কটির চারপাশে স্বচ্ছ কাঁচে দিয়ে আটকানো। ফলে বাইরের চেয়ে পার্কের ভেতরে উচ্চশব্দ একেবারেই কম। তবে কাঁচে মোড়ানো হলেও পার্কের ভেতরের সবুজ পরিবেশ এবং শিশুদের আনন্দ-উল্লাস বাইরে থেকে পুরোপুরিই দেখা যায়।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন মালিকানাধীন এই পার্কে দেখা যায়, শিশুদের বিনোদনের সব উপকরণ (রাইড) রয়েছে। সেখানে খেলাধুলা করছে শিশুরা। বাবা-মা বা অন্য দর্শনার্থীরা পার্কের ভেতরে নতুন জামা কাপড় পরে ঘুরাফেরা করছেন।

দক্ষিণ বাড্ডা থেকে ওই পার্কে যান মোতালেব সরকার। সঙ্গে স্ত্রী ও দুই ছেলে-মেয়ে। সন্তানদের রাইডে খেলতে দিয়ে এ দম্পতি একটি বেঞ্চে বসে গল্প করছিলেন। সেখানে কথা হলে মোতালেব জানান, তারা প্রায়ই এই পার্কে বেড়াতে আসেন। আজ এসেছেন ঈদ উপলক্ষে। সন্ধ্যায় ভালো একটি রেস্তোরাঁয় তারা রাতের খাবার খাবেন।

সদ্য বিয়ে করা স্ত্রীকে নিয়ে নিকেতন থেকে ওই পার্কে ঘুরতে এসেছেন খায়রুল কবির। আলাপকালে তিনি বলেন, ঈদের দিনটি পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বেড়াতেই কেটে যায়। আজ স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছি। পার্কের ভেতরের পরিবেশটা ভালো। এখানে কিছুটা সময় কাটাবো। বিকেলে বসুন্ধরা সিটিতে স্টার সিনেপ্লেক্সে সিনেমা দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

Advertisement

এমএমএ/এমকেআর/এএসএম