খেলাধুলা

হামজা চৌধুরীর হাত ধরে কি বাংলাদেশ পারবে নবযুগের সূচনা করতে?

হামজা চৌধুরীর হাত ধরে কি বাংলাদেশ পারবে নবযুগের সূচনা করতে?

শুধু বাংলাদেশই নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল ইতিহাসে এতবড় ফুটবলারের আগমণ ঘটেনি। তেমনই এক ফুটবলারের গায়ে আজ উঠতে যাচ্ছে বাংলাদেশের লাল-সবুজ জার্সি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ফুটবলার হামজা চৌধুরীর আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে আজ।

Advertisement

এশিয়ান কাপ কোয়ালিফাইং রাউন্ডে ভারতের বিপক্ষে আজ বাংলাদেশের ম্যাচ। মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ের জওয়াহেরলাল নেহরু পোলো গ্রাউন্ডে (স্টেডিয়াম) বাংলাদেশ সময় আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাজবে বাংলাদেশ-ভারত ফুটবল ম্যাচ কিক অফের বাঁশি।

দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলে ভারত একক পরাশক্তি। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে অনেক বেশি এগিয়ে তারা। ১২৩তম স্থানে রয়েছে তারা। এশিয়ান ফুটবলে এই দেশটি ২২তম স্থানে। আর বাংলাদেশ রয়েছে ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ১৮৫তম স্থানে। এশিয়ায় অবস্থান ৩৯তম।

র‌্যাংকিং হিসেব করলে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে যোজন যোজন পিছিয়ে। আবার মাঠের পারফরম্যান্স হিসেব করলেও একই ব্যবধান প্রকট হয়ে উঠবে। দুই দল মোট ৩১বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের জয় মাত্র ৩টিতে। হেরেছে ১৬টিতে, ড্র হয়েছে ১২টি ম্যাচ।

Advertisement

ভারতকে সর্বশেষ বাংলাদেশ হারিয়েছে ১৯৯৯ সালে এসএ গেমসের সেমিফাইনালে। টিপুর গোলে ওই ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিলো বাংলাদেশ। পরে আলফাজের একমাত্র গোলে নেপালকে হারিয়ে প্রথম এবং একমাত্রবার এসএ গেমসে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলো বাংলাদেশ।

সাম্প্রতিক সময়গুরোতে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় না পাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো শেষ মুহূর্তে গোল হজম করা। যদিও সর্বশেষ দু’দলের মুখোমুখি হওয়ার ম্যাচটা ছিল ১-১ গোলে ড্র। ২০২১ সালে ৪ অক্টোবর সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ ছিল সেটি। এরপর প্রায় গত চারবছর দু’দল আর মুখোমুখি হয়নি।

বাংলাদেশ এবার একটু ভিন্ন চেহারায়। সেটা অবশ্যই হামজা চৌধুরীর কারণে। বলা হচ্ছে, হামজা চৌধুরী একার যে ব্র্যান্ড ভ্যালু, পুরো ভারতীয় দলের ব্র্যান্ড ভ্যালু তার কাছাকাছি কিংবা একটু বেশি। হামচা চৌধুরীর কারণে পুরো দক্ষিণ এশিয়া তথা সাফভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে এখন বাংলাদেশ দলের ব্র্যান্ড ভ্যালু সবচেয়ে বেশি।

তো মাঠে এই ব্র্যান্ড ভ্যালুর প্রতিফলন কতটা দেখা যেতে পারে? ভারতীয় দল হামজা চৌধুরীকে ঠেকানোর জন্য অবসর ভাঙ্গিয়ে নিয়ে এসেছে সুনিল ছেত্রিকে। ফিরেই গত সপ্তাহে মালদ্বীপের বিপক্ষে গোল করেছেন তিনি। যা ছেত্রির ক্যারিয়ারে ৯৫তম গোল। মালদ্বীপকে তারা হারিয়েছে ৩-০ ব্যবধানে।

Advertisement

প্রস্তুতিটা ভালোই মনে হচ্ছে ভারতের। নিবিড় অনুশীলনের পাশাপাশি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলতে পেরেছে। বাংলাদেশ দলও নিবিড় অনুশীলন করেছে সৌদি আরবে গিয়ে। কিন্তু প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে না পারার ঘাটতি রয়ে গেছে। হামজা চৌধুরী অনেক বড় মাপের ফুটবলার- ঠিক আছে; কিন্তু তার সঙ্গে দলের অন্য ফুটবলারদের বোঝাপড়া যদি ঠিকমত না হয়, তাহলে এককভাবে তিনি কীই বা করতে পারবেন?

সতীর্থদের সঙ্গে মাত্র তিন-চারটি সেশনে কতটুকুই বা বোঝা-পড়া তৈরি হয়েছে, বলা মুস্কিল। যদিও বাংলাদেশ দলের পুরনো ফুটবলাররা হামজার ব্যাপারে বেশ ইতিবাচক। সবারই উচ্ছ্বসিত প্রশংসা হামজাকে নিয়ে। সবারই কথা হলো, হামজা দলের সঙ্গে মিশে গেছেন। এই মিশে যেতে পারাটাই মূল। তাহলে মাঠের বোঝাপড়াটাও ভালো হবে।

কিন্তু শিলংয়ে স্বাগতিক ভারত যেভাবে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে বিমাতাসূলভ আচরণ করেছে, অনুশীলন ভেন্যু নিয়ে যেভাবে হেনস্তা করেছে, তাতে বাংলাদেশ দলের ভেতরে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার কথা। হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা ফুটবলারদের মধ্যে সেই অস্থিরতা কতটা দূর করতে পারবেন, তা চিন্তার বিষয়।

হামজা চৌধুর খেলেন মূলত ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডে। মোট কথা ডিফেন্ডার। আর ভারতের সুনিল ছেত্রি খেলেন ফরোয়ার্ডে। সুতরাং, লড়াই বেশ ভালোভাবেই জমবে বলে মনে হচ্ছে আজ। যদিও বাংলাদেশ দলের পরিকল্পনা রয়েছে, হামজাকে মিডফিল্ডে খেলানোর। প্রয়োজনে নিচে নামবেন। তবে তার কাজ মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রন করা এবং মোরসালিন, রাকিব কিংবা ইবরাহিমদের বল তৈরি করে দেয়া।

এ ক্ষেত্রে তার দায়িত্বটা থাকছে অনেক বেশি। তাকে যেমন গোল রক্ষা করার কাজ করতে হবে, তেমনি গোল বানিয়ে দেয়ার কাজটাও করতে হবে। হামজাকে নিয়ে যে উচ্চাশা, তাতে করে তিনি কী পারবেন এই প্রত্যাশা পূরণ করতে? তাতে যদি দীর্ঘদিন পর হলেও একটি জয় পায় বাংলাদেশ!

আইএইচএস/