দেশজুড়ে

সেনাবাহিনীকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে: জোনায়েদ সাকি

সেনাবাহিনীকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে: জোনায়েদ সাকি

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, আমরা দেখছি সেনাবাহিনীকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। এই অস্থিরতার উদ্দেশ্য কী? আমরা প্রত্যেক পক্ষকে আহ্বান জানাই, যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চলছে সেটি যেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যায়। এমন কোনো ভূমিকা নেওয়া ঠিক হবে না যাতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়। কেউ কারও ওপর কিছু চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। আমরা ফ্যাসিস্ট ব্যবস্থার বদলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এটা জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে করতে হবে। না হলে ঘরের ভেতরের শত্রুরা সুযোগ পাবে।

Advertisement

সোমবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ নগরীর সি.কে ঘোষ রোডের একটি রেস্টুরেন্টে জেলা গণসংহতি আন্দোলন আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল পূর্ব এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আমরা সবাই মিলে গণঅভ্যুত্থান ঘটিয়েছি। এখন একটা দল এটার ক্রেডিট নিজেরা নিতে টানাটানি শুরু করেছে। গত ৫ আগস্টের পর বিভাজন তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। এই বিভাজন সৃষ্টি করা মানে পুরোনো ফ্যাসিবাদের কায়দা-কানুনকে জাগিয়ে দেওয়া।

‘ন্যূনতম জাতীয় ঐক্যের মধ্য দিয়ে সংস্কার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের নির্বাচনই পারে বাংলাদেশকে গণতন্ত্রের গতিমুখে ফেরাতে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় জোনায়েদ সাকি বলেন, মানুষ মনে করে, এই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন সম্ভবনা তৈরি হয়েছে, সেটা যেন বেহাত না হয়। ১৯৭১ সালে সশস্ত্র প্রতিরোধের মাধ্যমে এই বাংলাদেশ পেয়েছি। লাখ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। মানুষ যে আশা করে যুদ্ধ করেছিল, সে আশা বেহাত হয়ে গেছে। মানুষের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি। ৭২ সাল থেকে ক্ষমতার কারণে কেউ জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে, কেউ সংবিধানের ঊর্ধ্বে থেকেছে। সেটিই আমরা ৫৪ বছর ধরে দেখে আসছি।

Advertisement

তিনি বলেন, একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার তৈরি করা হয়। শেষে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে দিয়ে জমিদারি কায়েম করা হয়। ফ্যাসিবাদী সরকার সবকিছু নিয়ন্ত্রণে নিতে চেষ্টা করেছে। শেখ হাসিনা এভাবে ১৫ বছর ধরে দেশ শাসন করেছে। আমরা ভোট দিলেও, না দিলেও তারা নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করেছে। গুম, খুন, নির্যাতন, হামলা-মামলা করা হয়েছে। মূলত এ সবকিছু করা হয়েছে দেশের সম্পদ লুট করার জন্য। স্বৈরাচারী সরকার সম্পদ লুট করে। আর এটা আমরা সবচেয়ে বেশি দেখেছি শেখ হাসিনার শাসনামলে। তখন যারা বিরোধিতা করেছে, তাদেরকে শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করা হত। আমরা এই সমস্ত কিছু মোকাবিলা করে এই গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ী হয়েছি। এতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদান রয়েছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমরা সংস্কারও চাই, নির্বাচনও চাই। নির্বাচনের জন্য যেমন সংস্কার দরকার, তেমনি সংস্কারের জন্যও নির্বাচন দরকার। কারণ জনগণের সম্মতি ছাড়া সংস্কার সম্ভব হবে না। কাজেই সংস্কার এবং নির্বাচনকে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ঈদের পর দেশের জনগণ নির্বাচনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ জানতে চায়। সেই রোডম্যাপ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে কাজ করবে।

সভায় গণসংহতি আন্দোলন ময়মনসিংহের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব এআরএম মুসাদ্দিক আসিফের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হোসেন। এতে আরও বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকনুজ্জামান সরকার রোকন, কৃষক মজুর সংহতি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আলম, নারী নেত্রী রাহাত জাহান, জেলা নাগরিক ঐক্যের সদস্যসচিব হাতেম রানা, মহানগর সুজনের সম্পাদক আলী ইউসুফ, ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

এসময় গণসংহতি আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীসহ সামাজিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

কামরুজ্জামান মিন্টু/এফএ/জিকেএস