দেশজুড়ে

যশোরেশ্বরী কালী মন্দিরে চুরির সঙ্গে দুর্গা পূজার কোনো সম্পর্ক নেই

যশোরেশ্বরী কালী মন্দিরের চুরি যাওয়া স্বর্ণের মুকুট চুরির সঙ্গে দুর্গাপূজার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন খুলনা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি মো. রেজাউল হক। শুক্রবার (১১ অক্টোবর) রাতে যশোর শহরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও রামকৃষ্ণ মিশনে শারদীয় দুর্গাপূজা পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

Advertisement

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওই মন্দিরে স্থানীয় দুটি পক্ষের বিরোধ রয়েছে। একটা শ্রেণি ওই মন্দির নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে, চক্রান্ত করছে। স্থানীয়ভাবে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে অন্যকিছু জড়িত রয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে পুলিশ অনুসন্ধানের কাজ করছে। দেশবাসী একটু অপেক্ষা করেন, দ্রুতই সবকিছু পরিষ্কার করা হবে।

ডিআইজি মো. রেজাউল হক আরও বলেন, সিসিটিভি থেকে আমরা দেখেছি চোরের বয়স ২৫ থেকে ৩০ এর মধ্যে। চোরটি সুকৌশলে কালি মন্দিরের ভেতরে ঢুকে প্রতিমার পিছন থেকে চুরির কাজটি করেছে। ব্যক্তিকে ক্যামেরার মাধ্যমে চেনা যাচ্ছে। আমরা স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশায় জড়িতদের সঙ্গে আলাপ করেছি। ছেলেটির ছবি তাদেরকে দেখিয়েছি। এখন আমরা অনুমান করছি, ছেলেটি ওই অঞ্চলের নয়। আমরা তার নাম ঠিকানা পরিচয় এখনো পাইনি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সমাজে কিছু খারাপ মানুষ থাকে। যারা আমাদের উৎসবকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য এই কাজটি করেছে। এখন ঘরে ঘরে দুর্গাপূজার উৎসব চলছে, আর যে মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটেছে সেটা কালি মন্দির। ফলে দুর্গাপূজার সঙ্গে চুরির কোনো সম্পর্ক দেখছি না। বিষয়টি নিয়ে আমরা গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছি, আশা করি দ্রুত চোরকে চিহ্নিত করতে পারবো এবং মুকুটটি উদ্ধার করতে পারবো।

Advertisement

এর আগে ডিআইজি শহরের লালদীঘির হরিসভা মন্দির পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে যশোরের পুলিশ সুপার জিয়াউদ্দীন আহমেদ, যশোরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ, জেলা পূজা পরিষদের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতনসহ পুলিশ ও পূজা পরিষদের বিভিন্ন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার যশোরেশ্বরী কালীমন্দিরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপহার হিসেবে দেওয়া প্রতিমার মাথার স্বর্ণের মুকুটটি চুরি হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নে অবস্থিত মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া প্রতিমার মাথার স্বর্ণের মুকুটটি এখনো উদ্ধার হয়নি। এ ঘটনায় শুক্রবার রাত পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। চুরির ঘটনায় থানায় কোনো মামলাও হয়নি।

এইচআরএম/এফএ/জিকেএস

Advertisement