হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানদের জামায়াতের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
Advertisement
তিনি বলেন, আপনারা প্রস্তুতি গ্রহণ করুন। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জামায়াতে ইসলামীর ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেবেন। জামায়াতের ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নিলে আপনাদের স্বাগত জানানো হবে।
বুধবার (২৩ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত আয়োজিত ‘ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের নিয়ে প্রীতি সমাবেশে’ এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, আপনাদের কথা আপনারাই সংসদে গিয়ে বলবেন। আশ্বাস নয়, আহ্বান জানাচ্ছি- যদি পছন্দ করেন, তাহলে আগামীতে জামায়াতের ব্যানারেই নির্বাচনের জন্য তৈরি হোন। আপনারা এলে স্বাগতম, না এলে অন্তত ভালোবাসা চাই- দেশ ও নিজের জন্য।
Advertisement
শফিকুর রহমান বলেন, মসজিদ-মাদরাসা পাহারা দিতে না হলে মন্দির পাহারা দিতে হবে কেন? এই সংস্কৃতি আমরা বদলাতে চাই। এমন রাষ্ট্র গঠন করতে চাই, যেখানে কাউকে ধর্মীয় উপাসনালয় পাহারা দিতে হবে না।
আরও পড়ুন ক্ষমতায় গেলে বেকারদের জন্য ভাতা চালু করবে বিএনপি: তারেক রহমান নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ প্রত্যাখ্যান মহিলা জামায়াতেরএসময় তিনি অভিযোগ করেন, ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের যেসব ন্যায্য দাবি ছিল, তা বহু রাজনৈতিক দল নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করলেও বাস্তবায়ন করেনি। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে যেন দেশ ছাড়তে না হয়। যারা অতীতে দেশ ছেড়েছেন, তাদেরকেও ফেরত আনতে চায় জামায়াত।
জামায়াত আমির আরও বলেন, আমরা এমন রাজনীতি করতে চাই না যাতে মানুষ সম্মুখে সম্মান জানায় আর পেছনে গালি দেয়। সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু- এই বিভাজনের রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই।
সমাবেশে একুশে পদকপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া বলেন, সব ধর্মের মানুষ জামায়াত আমিরকে ভালোবাসেন। আমরা সংসদে গিয়ে আমাদের কথা বলতে চাই।
Advertisement
জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সভাপতি দীনবন্ধু রায় বলেন, জামায়াত ঢাকায় কয়টা বাড়ি দখল করেছে, আর অন্যরা কয়টা করেছে- এই হিসাব নিলে অনেক প্রশ্নের উত্তর মিলবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, বাংলাদেশ বৌদ্ধ কৃষ্টি প্রচার সংঘের সহকারী সেক্রেটারি প্রিন্সিপাল অনুপম বড়ুয়া, পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল প্রমুখ।
এএএম/কেএসআর/এএসএম