দেশজুড়ে

ঈদের নামাজে সবাই বাড়ি থেকে আনেন খাবার, খান ভাগাভাগি করে

কারো হাতে সেমাই, কারো হাতে ফিরনি-খিচুড়ি। বাড়িতে তৈরি এমন নানা খাবার নিয়ে ঈদের নামাজ পড়তে আসেন স্থানীয়রা। যার যেমন সাধ্য তিনি তেমন খাবার নিয়ে আসেন। ঈদের নামাজ শেষে সেই খাবার ভাগাভাগি করে খান সবাই মিলে।

Advertisement

শরীয়তপুর সদরের শৌলপাড়া ইউনিয়নের গ্রাম চিকন্দী এলাকায় এ ঈদুল ফিতরের নামাজে এ দৃশ্য দেখা যা। ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেড়শ বছর ধরে চলে আসছে এমন ঐতিহ্য।

জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার শৌলপাড়া ইউনিয়নের গ্রাম চিকন্দী এলাকায় ১৮৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় আখন্দ বাড়ি আব্দুল্লাহ জামে মসজিদ। যার প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আখন্দ। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই এলাকার মানুষ ঈদের নামাজ আদায় করার সময় বাড়ি থেকে ফিন্নি, পায়েস, সেমাই, খিচুরি ইত্যাদি খাবার নিয়ে আসেন। পরে নামাজ শেষে সেই খাবার একইসাথে বসে ভাগাভাগি করে খেয়ে থাকেন। মূলত পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন সৃষ্টি করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা চলে আসছে দীর্ঘ দেড়শ বছরের বেশি সময় ধরে। এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আগামীতেও এটি ধরে রাখা হবে বলে জানায় মসজিদ কমিটি।

ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করেন ফাহাদ আখন্দ। ঢাকায় জন্ম হলেও প্রতিবছর ঈদে পরিবারের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে আসেন গ্রামে। তিনি বলেন, আমি ঢাকায় থাকলেও প্রতি ঈদে গ্রামে আসা হয়। এখানে আমরা আমাদের পরিবার প্রতিবেশী সবার সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করি। সবচেয়ে ভালো লাগে ঈদের নামাজের সময় যে যেমন পারেন তেমন খাবার নিয়ে আসেন। পরে আমরা নামাজ শেষে একই সঙ্গে বসে সেই খাবার খাই। আগে থেকে যে রেওয়াজ চলে আসছে আগামীতে এভাবেই ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত থাকুক।

Advertisement

মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমেদ সালমান বলেন, আমি কিছুদিন হলো এখানে এসেছি। আজ ঈদের নামাজ পড়ানোর সময় খেয়াল করলাম সবাই বাড়ি থেকে খাবার নিয়ে আসছে। নামাজ শেষে সেই খাবার ভাগাভাগি করে খাচ্ছে। এটি আমার কাছে খুব আশ্চর্য ও বিরল মনে হয়েছে। আমি এমন ঘটনা এর আগে দেখিনি। এমন বন্ধন সব সময় অটুট থাকুক এটা আমরা কামনা করি।

ঈদগাহ কমিটির সভাপতি আ্যডভোকেট হেলাল উদ্দিন আখন্দ বলেন, আমার দাদার বাবা আব্দুল আখন্দ মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। তখন থেকেই এলাকাবাসীর মধ্যে বন্ধন দৃঢ় করতে নিয়মটি চালু করা হয়। যারা ঈদের জামাতে আসেন তারা বাড়ি থেকে ফিন্নি, সেমাই, খিচুড়ি নিয়ে আসেন। নামাজের মোনাজাত শেষে সবাই একসঙ্গে বসে বাসা থেকে আনা খাবার খান। আমরা চাই আমাদের আগামী প্রজন্মও এটি ধরে রাখবে।

বিধান মজুমদার অনি/এমএন/এএসএম

Advertisement