নানান আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো তিন দিনব্যাপী বাপা ফুডপ্রো ইন্টারন্যাশনাল এক্সপো- ২০২৫। রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিবি) গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় দেশের প্রক্রিয়াজাত খাদ্য শিল্পের সবচেয়ে বড় প্রদর্শনী। ফুডপ্রোর ১০ম এ আয়োজনে ২২ দেশের দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করে। যৌথভাবে এ আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) ও রেইনবো এক্সিবিশন অ্যান্ড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সার্ভিসেস (রিমস)।
Advertisement
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় মেলার সমাপনী অনুষ্ঠান হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরিচালক মো. শহিদুল আলম, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য ড. মোহাম্মদ শোয়েব, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. বেল্লাল হোসেন, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) সভাপতি মো. আবুল হাশেম, সাধারণ সম্পাদক মো. ইকতাদুল হক প্রমুখ।
এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, প্রসেসড ফুড রপ্তানিতে ভালো করছে। এই পণ্যটির আন্তর্জাতিক বাজার এত বড় যে বাংলাদেশ এর খুব সামান্যই দখল করতে পারবে। এই বাজার ধরতে আমরা চেষ্টা করছি। আমাদের আরও সহযোগিতা দরকার।
বাপা ফুডপ্রো সফল হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এটি সাধারণ মানুষের মেলা না। খাদ্য খাতের উদ্যোক্তরা এখানে এসেছেন। এটি একটি সফল আয়োজন। উদ্যোক্তারা নতুন প্রযুক্তি ও খাদ্যপণ্য সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। ২২ দেশ থেকে পণ্য ও সেবা নিয়ে ব্যবসায়ীরা এসেছেন। অনেক বড় এক্সপোতেও ২২ দেশের প্রতিনিধি পাওয়া যায় না।
Advertisement
হাফিজুর রহমান আরও বলেন, বাসা থেকে অনেকেই খাদ্যপণ্য তৈরি করছেন। অনলাইনের মাধ্যমে যে সুযোগটা তৈরি হয়েছে সেটি কাজে লাগাতে হবে।
মো. আবুল হাশেম বলেন, বিদেশে পণ্য রপ্তানি করার সময় পণ্যের মান নিয়ে মাঝেমধ্যেই হোঁচট খাই। কিন্তু দোষটা ফুড প্রসেসরদের না। যেখান চাষাবাদ হয় সমস্যাটা সেখান থেকে আসে। একবার আমি উত্তরবঙ্গ থেকে কিনতে গেলাম। যেখানে যাই সেখানেই বলে স্যরি টমেটোতে কেমিক্যাল দেওয়া হয়েছে। এভাবে অনেক জায়গায় গেলাম। কোথাও কেমিক্যালবিহীন টেমেটো পাইনি। শেষ পর্যন্ত না কিনেই ফিরলাম। কৃষকদের জ্ঞান দিয়ে অভিজ্ঞ করতে হবে। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ অনেক কাজ করছে। আগামীতে ভালো কৃষিপণ্য পাবো বলে আশা করছি।
আরও পড়ুন
প্রক্রিয়াজাত খাদ্য-কৃষিপণ্য ও কাঁচামালের পরিষেবার পসরা শুরু হলো তিন দিনব্যাপী বাপা ফুডপ্রোবিএসটিআইয়ে মান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি মোংলা ও চট্টগ্রাম বন্দরে বিএসটিআিইয়ের কার্যক্রম চালু করার আহ্বান জানান।
Advertisement
আবুল হাশেম বলেন, আমরা ভেজাল পণ্য প্রস্তুত করি না। মানের তারতম্য হতে পারে, কিন্তু অসুস্থ হওয়ার কারণ নেই। আমাদের কোনো সমস্যা পেলে সংশোধনের সুযোগ দেবেন।
এর আগে বিকেলে ‘খাদ্য নিরাপত্তার সমন্বয় সাধন এবং গুণমান নিশ্চিত করা ও তদারকি’ শীর্ষক কারিগরি অধিবেশনে বক্তারা রপ্তানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিএসটিআইয়ের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফুড সেফটি অ্যান্ড এসপিএস ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ এলএলসির টিম লিডার মো. ইমরুল হাসান।
তিনি বলেন, চাল ও চাসহ নানান কৃষিপণ্য উৎপাদনে আমরা বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে আছি। তবে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ সমস্যার সমাধান না করায় খাদ্যপণ্য রপ্তানিতে ভালো করছি না। পোস্ট ম্যানেজমেন্টে ব্যর্থতা, টেকনিক্যাল সাপোর্ট না থাকায় প্রত্যাশামতো রপ্তানি করতে পারছি না।
নিজেরাই নিজেরদেশের পণ্য নিয়ে ভালো ধারণা পোষণ করি না জানিয়ে তিনি বলেন, লেভেলিং, মিস ইনফরমেশন, মিস ব্র্যান্ডিংয়ের কারণে বিদেশে দেশীয় পণ্যের নামে অভিযোগ আসছে। আমরা একটা পণ্য পাঠাচ্ছি কিন্তু ডিক্লিয়ার করছি অন্য পণ্য। ব্যবসায়ীরা সচেতন নয়।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সময়সাপেক্ষ। এখানে সবার অংশগ্রহণ প্রয়োজন আছে।
বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) পরিচালক মো. শহিদুল আলম বলেন, আমরা শতাধিক পণ্যের হালাল সার্টিফিকেশন করেছি। সেগুলো বিশ্ববাজারে প্রবেশ করছে। খাদ্য নিরাপত্তায় আমরা কোনো ছাড় দিচ্ছি না।
এসএম/কেএসআর/এমএস