রাজনীতি

রাজনৈতিক দল গঠনের পর নিজস্ব কার্যক্রমে ফিরবে জাতীয় নাগরিক কমিটি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে আত্মপ্রকাশ হতে যাওয়া নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পর পূর্ণ উদ্যমে জাতীয় নাগরিক কমিটি তার কার্যক্রমে ফিরবে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য মোহাম্মদ মিরাজ মিয়ার পাঠানো এক বার্তায় একথা জানানো হয়। মূলত বুধবার জাতীয় নাগরিক কমিটির ১১ তম সাধারণ সভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত সমূহ স্পষ্ট করতেই বৃহস্পতিবার বিষয়টি জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়, ২৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় সদস্যদের উপস্থিতিতে ১১ তম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নিম্নলিখিত সিদ্ধান্তসমূহ গৃহীত হয়-

১. আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, মুখপাত্র ও মুখ্য সংগঠক ছাড়া জাতীয় নাগরিক কমিটির অবশিষ্ট অর্গানোগ্রাম, নির্বাহী কমিটি, সেলসমূহ ও সার্চ কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ, জাতীয় নাগরিক কমিটির সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষা, সংস্কৃতি, জলবায়ু, কূটনীতি, দপ্তর, সোশ্যাল মিডিয়া বিষয়ক যে সেলগুলো করা হয়েছিল, সোগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

Advertisement

২. আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, মুখপাত্র, মুখ্য সংগঠক এর পাশাপাশি ‘যুগ্ম’ ও ‘সহ’ যে পদগুলো ছিল (যেমন-যুগ্ম আহবায়ক, যুগ্ম সদস্য সচিব, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক, সহ-মুখপাত্র ইত্যাদি) সেগুলোও বিলুপ্ত করা হয়েছে। তাছাড়াও, জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ৩৪ সদস্যের যে নির্বাহী কমিটি এবং কমিটিতে নতুন সদস্য নেওয়ার জন্য যে সার্চ কমিটি ছিল সেগুলোও বিলুপ্ত করা হয়েছে। কারণ এই পদগুলোতে থাকা অনেক সদস্য আসন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত হতে যাচ্ছেন। তাই ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন দল গঠন পরবর্তী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বর্তমান আহ্বায়ক, সদস্য সচিব, মুখপাত্র ও মুখ্য সংগঠক দায়িত্ব নিয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করবেন। বর্তমানে দায়িত্ব থাকা ব্যক্তিরা তাদের দায়িত্ব নতুনদের কাছে হস্তান্তর করবেন। নতুন নেতৃত্বরাই পরবর্তীতে নির্বাহী কমিটিতে কারা থাকবেন, সেল ও সম্পাদকগুলোতে কারা থাকবেন- এসব বিষয়ে তাদের সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত নেবেন। দলে যোগ দিচ্ছেন না এমন সদস্যদের সদস্যপদ বহাল থাকবে।

৩. ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ নতুন দল আত্মপ্রকাশের মাধ্যমে জাতীয় নাগরিক কমিটির রাজনৈতিক দল গঠনের ঐতিহাসিক দায়িত্ব সম্পন্ন হয়েছে। দল গঠনের পর থেকে জানাক সিভিল-পলিটিক্যাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই থেকে যাবে। আর কোনো দল গঠনের উদ্যোগ নেবে না। এছাড়া, আগামী দিনে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনগণের স্বার্থে জাতীয় নাগরিক কমিটি সবসময় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাবে।

অর্থাৎ, জাতীয় নাগরিক কমিটি আত্মপ্রকাশের সময় দেশকে একটি নতুন রাজনৈতিক দল উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। জনগণের পক্ষ থেকে চলমান বাস্তবতায় বাংলাদেশমুখী, মধ্যপন্থি, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক একটি রাজনৈতিক দলের যে প্রয়োজনীয়তা অনুভব হচ্ছিল, তারই পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নাগরিক কমিটি ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি নতুন রাজনৈতিক দল জাতিকে উপহার দিতে যাচ্ছে। এই দল আত্মপ্রকাশের পর নতুন করে আর দ্বিতীয় কোন রাজনৈতিক দল গঠনের কাজ জাতীয় নাগরিক কমিটি করবে না। জাতীয় নাগরিক কমিটি তার সাংগঠনিক কার্যক্রম বর্তমানের মতোই একটি সিভিক পলিটিক্যাল প্লাটফর্ম হিসেবেই চালিয়ে যাবে।

বার্তায় আরও জানানো হয়,উপজেলা, থানা ও ওয়ার্ডে জাতীয় নাগরিক কমিটির যে প্রতিনিধি কমিটিগুলো গঠিত হয়েছিল এবং পেশাজীবীদের নিয়ে যে উপ-কমিটি বা প্রতিনিধি কমিটি হয়েছিল সেসব কমিটির যেসব সদস্য আসন্ন রাজনৈতিক দলে যুক্ত হতে ইচ্ছুক, তারা নাগরিক কমিটি থেকে রাজনৈতিক দলে কোন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হবে সেটি দ্রুত সময়ের মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হবে৷

Advertisement

এনএস/এএমএ/এএসএম