গাজীপুরের শ্রীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতের ছয় মাস পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালসহ ৩৩৪ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের তালিকায় মৃত ব্যক্তির নামও রয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) শ্রীপুর থানায় মামলাটি রেকর্ডভুক্ত হয়।
Advertisement
মামলার বাদী মুর্শিদা খাতুনের বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর থানার নলুয়াপাড়া গ্রামে।
মামলার অভিযোগপত্রে মুর্শিদা খাতুন উল্লেখ করেছেন, গত বছরের ৫ আগস্ট বিজিবি সদস্যদের বহনকারী কয়েকটি বাস মাওনা পল্লী বিদ্যুৎ মোড়ে ছাত্র আন্দোলনের মুখোমুখি হয়। ছাত্র-জনতার মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, এ বিজিবি সদস্যদের দিয়ে ঢাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন হটানো হবে। এসময় মামলার আসামিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিজিবির সঙ্গে থাকা অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালায়। এতে তার ছেলে গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভালুকা জেনারেল হাসপাতালে মারা যান।
মামলায় আসামিদের তালিকায় রয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক ডিবি প্রধান হারুনুর রশিদ, সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আব্দুল্লাহ্ আল মামুন প্রমুখ।
Advertisement
এ মামলায় ২৫৩ নম্বর আসামি হারুন মোড়ল। তিনি গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর রাতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বড় মেয়ে জান্নাতুন নাহার।
তিনি বলেন, ‘গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর আমার বাবা হার্ট অ্যাটাক করে মারা যান। কয়েকদিন ধরে শুনছি আমার বাবার নামে মামলা হয়েছে। অনেকেই আমাদের পরিবারকে ফোন দিয়ে মামলার বিষয়টি জানাচ্ছেন।’
এদিকে টেংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুক, তেলিহাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলী মনসুর মানিক, উত্তর পেলাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লুৎফর রহমান ও জৈনাবাজারের আব্দুল আউয়াল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও বিএনপি নেতা খোকন সরকারের নামও রয়েছে আসামিদের তালিকায়।
এ বিষয়ে গাজীপুর বারের আইনজীবী হাবিবুর রহমান বলেন, ফৌজদারি বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করে মামলা রুজুর বিধান রয়েছে। মামলায় মৃত ব্যক্তি নাম থাকলে তা অবশ্যই পুলিশের গাফিলতি আর অদক্ষতা।
Advertisement
জানতে চাইলে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন মন্ডল বলেন, ৩৩৪ জনের নামে মামলার আবেদন করেছে। এটা অনেক বড় সংখ্যা। মামলার আগে যাচাই-বাছাই শেষ করতে পারিনি। আমরা মামলার তদন্ত শুরু করেছি। মৃত ব্যক্তির নাম বাদ দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
আমিনুল ইসলাম/এসআর/জিকেএস